টেন্ডারবাজির অভিযোগে ৪ জনকে আটকের পর ছেড়ে দেয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় রৌমারী হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী

0


নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি:
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী হাসপাতালে টেন্ডারবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ সরকার দলীয় ৪ যুবককে পুলিশ আটক করে ৪ঘন্টা পর অদৃশ্য ইশারায় ছেড়ে দেয়। রৌমারী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজমুল হুদা নিরাপত্তাহীনতায় থাকার কথা স্বীকার করলেও কাদের চাপে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা বলতে সাহস করেননি।

রৌমারী থানার এস আই আব্দুল মতিন বলেন, ওসির নির্দেশে হাসপাতালে ফোর্স নিয়ে গিয়ে ৬/৭ জনকে হট্রগোল করতে দেখি। হাসপাতালের ভিতর থেকে তাদের সড়ে যেতে বললে উল্টো পুলিশের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরন করে। পরে ওসি মহোদয়কে অবহিত করে মারুফ আহম্মেদ সীপ্ত, মাহাতাব হোসেন, সাদেকুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেনকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরবর্তীতে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মোঃ দিলওয়ার হাসান ইনাম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন ও পুলিশ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিকাল ৪টার দিকে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মোঃ দিলওয়ার হাসান ইনাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অভিযোগ করা হয় দরপত্র বাতিল হওয়ার পরও একদল যুবক জোরপূর্বক কাজ দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তপক্ষের নিরাপত্তার সার্থে ঘটনাস্থল থেকে চার যুবককে আটক করে পুলিশ। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। আটক ৪ যুবকের কাছে অপরাধ না করার মুচলেকা নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাফিজার রহমান রবিন এর জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমেনুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের রোগীর খাদ্য সরবরাহ, ষ্টেশনারী মালামাল সরবরাহ ও কাপড় ধোলাই করন এর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় গত ৩১/০৮/২০ তারিখে। এরপর ২৯/০৯/২০ তারিখে দরপত্র খোলা হয়। দাখিলকৃত দরপত্র মূল্যায়ন করা হয় ২০ অক্টোবর। এতে দেখা যায় ৩টি গ্রুপে ৯টি দরপত্রের মধ্যে ৮টি দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। শুধুমাত্র ষ্টেশনারী সরবরাহ গ্রুপে একটি দরপত্র বৈধ হয়। ফলে দুটি গ্রুপে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ খবর জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বাতিল দরপত্র দাখিলকারী দরপত্র দাতারা। তাদের হয়ে একটি চক্র চাপ সৃষ্টি করতে থাকে নতুন করে দরপত্র আহ্বান নয় তাদেরকেই এ অবস্থায় কাজ দিতে হবে। ঐ দিন সন্ধ্যায় তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বুধবার সকাল থেকে একটি গ্রুপ একই ভাবে অবৈধ পন্থায় বাতিলকৃত দরপত্রের নামে কাজ দাবি করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে এক পর্যায়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ৪জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর বেশী কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
রৌমারী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজমুল হুদা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে দাবি করেন।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, রৌমারীর ঘটনাটি দুঃখজনক। অভিযুক্তদের পুলিশ আটক করেছে ঘটনাস্থল থেকে। পরে জেনেছি মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়েদেয়া হয়েছে। ঘটনা জানার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন এমপি) মহোদয়ের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপের নির্দেশনা দেয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানাযায়, মারুফ আহম্মেদ সীপ্ত রৌমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আর জিম্মা গ্রহনকারী মোস্তাফিজার রহমান রবিন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক। দু’জনে আপন ভাই। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন এমপি’র চাচাত ভাই। ফলে এলাকার কোন মানুষ কিংবা সরকারী কোন কর্মকর্তা কর্মচারী এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না। শহরের ‘রেইনবো’ আবাসিক হোটেলটি ভাড়া নিয়ে মারুফ আহম্মেদ সীপ্তর নেতৃত্বে পাগলা বাহিনী ওরফে বিচ্চু বাহিনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। পুলিশের উপর হামলা, টেন্ডারবাজি, জমি দখল, মাদক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। টর্চার সেল হিসাবে ব্যবহার করা হয় এই রেইনবো আবাসিক হোটেলটি। ইতি পূর্বে বিভিন্ন অভিযোগে এ বাহিনীর অনেককে পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে উপর মহলের চাপে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত নিতে পারেনি। পুলিশের একজন কর্মকর্তা এসব অভিযোগের কথা স্বীকার করলেও নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
মোবাইল বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মারুফ আহম্মেদ সীপ্ত’র বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here