ঢাকা উত্তরে ল্যান্ডফিল্ড সম্প্রসারণ:পরামর্শক পাবেন ৪ কোটি টাকা

0


সময় সংবাদ বিডি:ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একটি প্রকল্প এরিয়া বা ল্যান্ডফিল্ড সম্প্রসারণের কাজে (স্থানীয়) পরামর্শকের জন্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর আমিন বাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ৭৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

প্রকল্পের কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তির পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৫টি জোন ও ৩৬টি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত।

সম্প্রতি ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এসব এলাকার মোট জনসংখ্যা ৩৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩০২ জন। এছাড়া ঢাকা শহরে ফ্লোটিং জনসংখ্যা মোট সংখ্যার ২০ শতাংশ করে হিসেব করলে ২০১১ সালে মোট জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৮ জন। বর্তমানে এ সংখ্যা অনেক। জাইকার ২০০৫ এর গবেষণা অনুযায়ী পারিবারিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও স্ট্রীট বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ মাথাপিছু শূন্য দশমিক ৫৪ কেজি। এবং এর পরিমাণ দিন দিন শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ হারে বাড়বে। এভাবে জনসংখ্যা ও মাথাপিছু বর্জ্য উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় মোট বর্জ্যের পরিমাণ প্রতিবছর বেড়েই চলছে।

এইদিকে বর্জ্য উৎপাদন যে হারে বাড়ছে বর্জ্য ডিসপোজালের হার সে হারে বাড়ার সুযোগ না থাকায় সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যমান আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের যে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে তা দিয়ে আর দুই বছর পর্যন্ত বর্জ্য ফেলা সম্ভব। এজন্য নতুনভাবে ল্যান্ডফিল নির্মাণের পাশাপাশি বর্জ্য কমানোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলে সমস্যা আরও প্রকট হবে। এ কারণে নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণ,বর্জ্য ভস্ম করা বা ইনসিনারেশন প্লান্ট বসানো,রিসোর্স রিকভারির জন্য অবকাঠামোগত সুযোগ স্থাপন, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কম্পোস্ট প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হতে পারে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যমান ল্যান্ডফিল ক্লোজ ও উন্নয়ন,জমি অধিগ্রহণ,উন্নয়ন, নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণ,ইনসিনারেশন স্থাপন, বর্জ্য আলাদাকরণ,মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরী,রি-সাইক্লিং ও কম্পোস্ট প্লান্ট স্থাপনের সুযোগ তৈরি করা হবে।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গীস বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও ভস্ম বা ইনসিনারেশনের মাধ্যমে ভূমির উপর চাপ কমানো,বর্জ্য পরিবেশ বান্ধব ও মান সম্মত উপায়ে সংগ্রহ, পরিবহন ও নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে ডিসপোজালের ব্যবস্থাকরণ,বর্জ্য কার্বন নি:সরণের পরিমাণ হ্রাসকরণ,রিসোর্স রিকভারি সুবিধা স্থাপনের মাধ্যমে ল্যান্ডফিলে বর্জ্যের পরিমাণ কমিয়ে বর্জ্যকে সম্পদে রুপান্তর করা সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন,প্রকল্পটি প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ৩ মার্চের সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে, ৮০ একর ভূমি অধিগ্রহণ,১ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ ঘনমিটার ল্যান্ডফিল্ডের জন্য ভূমি উন্নয়ন,৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬০০ ঘনমিটার ইনসিনারেশন প্লান্ট স্থাপনের জন্য ভূমি উন্নয়ন,এক লাখ ৩৮ হাজার ৬০০ ঘনমিটার কম্পোস্ট প্লান্টের জন্য ভূমি উন্নয়ন,রিসাইকেল সুবিধার জন্য ভূমি উন্নয়ন,মেডিকেল ফ্যাসিলিটির জন্য ভূমি উন্নয়ন,৩ হাজার ৬০০ মিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
নিউ সূত্রে- সারাবাংলা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here