তুমি ফিরে এসেছিলে বলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত- অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু

0


সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা:১৭ মে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আলোকোজ্জ্বল দিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য সন্তান জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ এর পনের আগস্ট মানবতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের বিভৎসতা সারা বিশ্ববাসীকে স্তব্দ করে দিয়েছিল। সেদিন ঘাতকচক্র নির্মমভাবে হত্যা করেছিল বাঙালি জাতির আরাধনার সন্তান, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব,ছেলে শেখ কামাল,শেখ জামাল,শেখ রাসেল,শেখ কামালের স্ত্রী রোজী কামাল,শেখ জামালের স্ত্রী সুলতানা জামাল সহ তাঁর অনেক আত্বীয়স্বজনকে। ঘাতকরা সে দিন এমনই পৈচাশিকতায় মেতে উঠেছিল যে, বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে আদরের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে যাবার আশ্বাস দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পৈচাশিকতার এক জঘন্য নজির স্হাপন করেছিল। শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা সেদিন দেশের বাইরে অবস্থান করায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন।

পচাত্তোর পরবর্তী সই বিবেষিকাময় দিনগুলোতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দুইবোনের চোখের জ্বলে বুক ভেসেছে। হাতে গোনা দুই একজন ছাড়া সেই দুঃসময়ে কেউ তাদের পাশে দাড়ায়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়া ক্ষমতাসীন হয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার না করে বিদেশি দুতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। এই সকল খুনিরা রাষ্ট্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিদেশে অবস্থানরত পিতৃ-মাতৃহীন দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে হত্যা ষড়যন্ত্র করেছিল। তাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে ভারত সরকার সেদিন তাদের দুই বোনকে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে মাবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছিল।

বাংলাদেশে ফেরা তাদের জন্য চরম ঝুকি জেনেও সেদিন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা তাদের জন্মভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাইলেও খুনি জিয়াউর রহমান সরকার তাদের স্বদেশে আসতে অনুমতি দেননি। বঙ্গবন্ধুর হত্যার তদন্ত করার জন্য বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন পক্ষ থেকে বাংলাদেশে আসতে চাইলেও জিয়াউর রহমান সরকার তাদের আসতে অনুমতি দেয়নি। পচাত্তর থেকে উনাশি ছয়টি বছর শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা বিদেশের মাটিতে অবস্থান করেন।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ঐ বছরই ১৭ মে সরকারের নিষেধাঙ্গা অমান্য করে রবিবার বিকাল সাড়ে চারটায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং বিমানে ভারতের দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেদিন মুশলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। পিতৃ মাতৃহীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই তিনি
অঝোরে কাঁদছিলেন। প্রকৃতির অবিরাম মুষলধারে ভারী বৃষ্টি এবং শেখ তাঁর অশ্রুসিক্ত নয়ন মিশে সেদিন একাকার হয়ে গিয়েছিল । শেখ হাসিনার বুক ফাটা আর্তনাদে সেদিন আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল। বেদনার্ত কন্ঠে সেদিন লক্ষ লক্ষ জনতার উদ্দেশ্য জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন-
❝ বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই ৷ ❞
শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে সেদিন উপস্থিত লক্ষ লক্ষ জনতার বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে পড়েছিল। পরক্ষণেই তাদের গগনবিদারী স্লোগানে সেদিন রাজধানী ঢাকার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়েছিল।

শত বাধাবিঘ্ন ও প্রতিকুলতার পাহাড় ডিঙিয়ে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা তাঁর বাবা মায়ের স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডিস্হ ঐতিহাসিক বত্রিশ নাম্বারে মিলাদ পড়ানোর জন্য যেতে চাইলেও স্বৈরাচারী জিয়াউর রহমান সরকার তাকে সেখানে যেতে দেয়নি। বাবা মা ভাই আত্বীয়স্বজনহারা শেখ হাসিনা বুকে পাথর বেধে সকল কষ্ট চাপা দিয়ে সকল ভয়ভীতি, লোভ লালসা মোকাবেলা করে সুদীর্ঘকাল সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জেনারেলদের বুটের তলায় পিষ্ট গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করে বাঙালি জাতিকে কলংকমুক্ত করেছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল অপশক্তিকে জয় করে বাংলাদেশকে আজ এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ আজ সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত একজন অপরিহার্য বিশ্ব নেত্রী। সেদিন শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন বলেই আজ বাঙালি জাতি সারা বিশ্বে একটি মর্যাদাশীল জাতি হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here