দিল্লি নিতে জানে কিন্তু দিতে জানে না : রিজভী

0


photo-1491463499স্টাফ রিপোর্টার, সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা:বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, দিল্লি নিতে জানে কিন্তু দিতে জানে না। চুক্তি ছাড়াই ভারতের পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকদিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধ চালুর প্রস্তাব তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মেনে নিয়ে অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ভারত সেই সুযোগ নিয়ে স্থায়ীভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালু রেখেছে, ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে রুক্ষ ও মরুময় অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছে। অতি নতজানু হওয়ার কারণেই দিল্লির মতলব টের পায়নি তৎকালীন আওয়ামী সরকার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, আজকের মতোই জনমতকে তাচ্ছিল্য করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অঙ্গচ্ছেদ করে বেরুবাড়ী দিল্লির দরবারে উপহার হিসেবে দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা ভূমি সীমান্ত সমস্যার এক ধরনের লোক দেখানো সমাধানের কথা বলা হলেও এখনও কঠিন জটিল আবর্তের মধ্যে পড়ে আছে ছিটমহলবাসীরা।
জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে শাসকদলের সংশ্লিষ্টতা জাতিকে হতবাক করেছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, গত কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহে যেসব জঙ্গিদের ধরা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন ধোবাউড়া উপজেলা বাঘবেড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল আমিন। আরো দুজন আওয়ামী পরিবারের সদস্য এবং যেই ভবন থেকে তাদেরকে ধরা হয়েছে সেই ভবনটিও আওয়ামী লীগের একজন সাবেক এমপির বাড়ি। যেমন ভাবে শায়খ আব্দুর রহমান থেকে শুরু করে হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িত কেউ কেউ আওয়ামী পরিবারের সদস্য।
সুইডিশ রেডিওতে প্রচারিত সংবাদের জের ধরে রিজভী আহমেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের গুপ্তহত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা ফাঁস হয়ে যাওয়াতে এদের কর্মকাণ্ডের বিভৎস রুপ এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের মানুষের বিবেককে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে। ওই কর্মকর্তা কিভাবে কোনো ব্যক্তিকে গুম করা হয় সেটির তিনটি কৌশলের কথাও উল্লেখ করেছেন। কৌশলগুলি হলো- টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে ধরা, তাকে হত্যা করা, লাশ লুকিয়ে ফেলা। নিহতদের মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়ার আগে লাশের সঙ্গে কিভাবে কংক্রিটের ব্লক বেঁধে দেয়া হয় অডিও কথোপকথনে সেটিরও বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১০ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করেছিলেন। সেই সময় তিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য প্রায় ৫০টির মতো চুক্তি করেছিলেন। অপ্রকাশ্য চুক্তিগুলির বিষয়ে এখনো জনগণ কিছুই জানতে পারেনি। সীমান্ত সমস্য সমাধানের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এর বিনিময়ে যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডকেই একরকম ইজারা দেয়া হয়েছে, যেমন- নামমাত্র মাশুলের বিনিময়ে ভারতকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বহুমূখী ট্রানজিটের নামে করিডোরের সুবিধা দেয়া হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here