ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা চোখের পানিতে ফরিয়াদ জানালেন আল্লাহ দরবারে

0


সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা: চোখের পানিতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানালেন,এই মুহূর্তে তুমি ছাড়া আর কোনো উপায় নেই”ইয়া রাব্বুল আলামীন” ইয়া মাবুদ।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আজ জুমার নামাজ শেষে বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষায় আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এ সময় চোখের পানি ফেলে দেশ ও দেশ বাসীকে রক্ষায় আল্লাহর দরবারে দুহাত তুলে ফরিয়াদ করেন। এবং প্রাণঘাতী এই করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাবার জন্য সাদা মুসলিম জানার জন্য তার দোয়া চেয়েছেন।

মোনাজাতে ঈমাম বলেন,আল্লাহ আমাদের গোনাহ মাফ করে দাও। আমাদের যাবতীয় ভুলগুলো মাফ করে দাও। আমাদের দোয়া কবুল করো। সারাবিশ্বে যেভাবে মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে সেখান থেকে পরিত্রাণ দাও সবাইকে। সবাইকে মাফ করে দাও। আমাদের বাংলাদেশকে রক্ষা করো। বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করো। আল্লাহ তুমি আমাদের ওপর থেকে মুছিবত ‍দূর করে দাও।

মোনাজাতে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে তুমি ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। একমাত্র তুমি পারো বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে। তাই তোমারই সাহায্য কামনা করছি। তুমি আসমানি বালা আসমানে উঠায়ে নাও। জমিনের বালা জমিনে দাবায়ে দাও। তুমি পরাক্রমশালী, তুমি শক্তিধর। আমরা তোমারই ইবাদত করতে চাই। আল্লাহ তুমি সকলকে মাফ করে দিয়ে এই মহামারীর হাত থেকে রক্ষা করো।

উপস্থিত মুসল্লিরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমিন আমিন উচ্চারণ করতে থাকেন। এসময় মুসল্লিদের চোখ ভরা অশ্রুজল ঝরতে থাকে, কান্না ফেটে যায় বুক। উচ্চস্বরে আমিন বলে কেঁপে ওঠে গোটা বায়তুল মোকাররমে এলাকায়। ইয়া রাব্বুল আলামীন,আপনি আমাদের যে শাস্তি দিচ্ছেন আমরা সহ্য করতে পারছি না। আপনি আমাদের ধ্বংস করে দিয়েন না। যে মহামারি চলছে তা থেকে হেফাজত করুন। আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই আল্লাহ। একমাত্র তোমারই কাছে ভিক্ষা চাইছি আল্লাহ। তুমি আমাদের রক্ষা করো মাবুদ। দেশের মানুষকে রক্ষা করো আল্লাহ। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যেসব চিকিৎসক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে এসেছে তাদের রক্ষা করুন আল্লাহ। দেশের শৃঙ্খলা রক্ষায় যারা কাজ করছেন তাদেরও রক্ষা করুন আল্লাহ।

এর আগে দুই রাকাত জুমার ফরজ নামাজ আদায় করা হয়েছে। অন্যান্য শুক্রবার যত সংখ্যক মুসল্লি হয়ে থাকে তার দশভাগের একভাগ মুসল্লি আজ নামাজে অংশ নেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। অন্যান্য দিনে বাইরে, সিঁড়িতে এবং দ্বিতীয় তলায় বিশাল আকারে গড়া টিনশেডেও জায়গা হতো না মুসল্লিদের। কিন্তু আজ ছিল সবই ফাঁকা।

নামাজের সময় সবাই কারও শরীরের সঙ্গে যেন শরীর না লাগে সে জন্য দূরত্ব বজায় রেখেছিল তারা। এদিন বয়স্ক মুসল্লি কিংবা শিশুদের ভিড় দেখা যায়নি জাতীয় মসজিদে। আজকে কোনো বাংলা তরজমা হয়নি। অভ্যন্তরীণ আজানের পর সংক্ষিপ্ত খুতবা হয়। সেই খুতবা ঈমাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে পাঠ করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here