ন্যাড়া’হওয়ার ধূম পরেছে গ্রামও শহরে-করোনা ঠেকাতে নতুন গুজব!

0


সময় সংবাদ বিডি -ঢাকা:করোনায় ‘ন্যাড়া’ হওয়ার ধূম পরেছে গ্রাম ও শহরে, ইতিমধ্যে ন্যাড়া হওয়ার বেশ কিছু ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল দুনিয়ায় নানান রকম বন্ধুত্ব। একেক বন্ধুত্বের একেকরকম হয়ে থাকে ঠিক, এরমধ্যে একটি বড় অংশ জুড়ে আছে সামাজিক মাধ্যম। যেখানে আছে লাইক আর কমেন্ট।

কিন্তু বুক ধরফরের কোন বিষয় নেই। নেই রাগ অভিমান। সকলেরই লম্বা তালিকা বন্ধুত্বের। আর এই বন্ধুদের করোনার দিনলিপি খেয়াল করলে অদ্ভূত বিষয় নজরে পড়ছে। দিন যত যাচ্ছে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে সবাইকে। দেশজুড়ে চলছে সাধারণ ছুটি।

তবে সচেতনতার বাইরেও করোনা থেকে বাঁচতে নানা বিষয়ে ঝুঁকছে মানুষ। শুরুতে থানকুনির পাতা খাওয়ার হিড়িক লেগেছিল মানুষের মধ্যে। বলা হচ্ছিল, থানকুনি পাতার রস খেলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হবে না। রাতবিরাতে থানকুনির পাতা খুঁজতে নেমে পড়েছিলেন গ্রামের মানুষ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত থানকুনি পাতার সংকট তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন এলাকায়।

থানকুনি পাতার পর এবার নতুন গুজব ছড়িয়েছে গ্রামাঞ্চল ও শহর জুড়ে। বলা হচ্ছে,মাথা টাক করলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। শুরু হয়ে গেছে দলবেঁধে মাথা টাক করা। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, দলে দলে মাথা টাক করতে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ঠিক হচ্ছে না। তারা একসঙ্গে মিছিলের মতো দল বেঁধে মাথা টাক করছেন। দলে দলে পুকুরে নেমে গোসল করছেন। এসব দলীয় ছবি তুলে আবার ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসব ছবি দেখে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এই কাজে।

ম‌াথা ন্যাড়া কর‌লে ক‌রোনা হয় না, এই গুজ‌বে কান দে‌বেন না। কান দেয়ার হি‌ড়ি‌কে সামাজিক দূরত্ব ক‌মে এ‌সে‌ছে। বিপদ আসন্ন!
আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে গুজবে কান দেওয়ার প্রবণতা বেশি। মাথা টাক করা নিয়ে এখন একটা গুজব সারা দেশে চলছে। কে বা কারা ছড়িয়েছে যে মাথা টাক করলে করোনা হবে না।

শুধু তাই নয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা যায়,মাথা টাক করতে গিয়ে মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম মানছে না। এতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই এই গুজবের বিরুদ্ধে শক্ত প্রচারণা প্রয়োজন। যে করেই হোক মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি বোঝাতে হবে।

সারা দেশে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর নিয়ে জানা গেছে, মাথা টাকের ছবি যতটা না ফেসবুকে আসছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ মাথা টাক হচ্ছে। তারা করোনা থেকে বাঁচতে এখন মাথা টাককে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করছে অনেক মানুষই।

এইদিকে চিকিৎসকরা বলছেন,মাথার চুল ফেলার সঙ্গে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ যদি এটা প্রচার করে থাকে যে, চুল ফেললে করোনা হবে না, তাহলে তা ভুল। বরং এই অবস্থায় কেউ যদি ঘরে না- থেকে গণজমায়েতে যান বা দল বেঁধে ঘুরে বেড়ান, তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এই মুহূর্তে ঘরে থাকা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই করোনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।

এইদিকে,অনেকেই আবার বলছেন, দীর্ঘ ছুটিতে সেলুন বন্ধ থাকবে। এই ছুটি আরো কত লম্বা হয় তার ঠিক নেই। চুল ছাঁটার সুযোগ হয়তো দীর্ঘদিন পাওয়া যাবে না। তাই চুল ফেলে দিচ্ছেন তারা। আবার কেউ কেউ বলছেন,পরিস্থিতি ঠিক হলেই যে সেলুনে যাওয়া যাবে তা নয়। কারণ এই ভাইরাস সহজে নির্মূল হবে,এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই চুল ফেলে দিয়েছি। যেন সেলুনে যেতে না হয়।

অন্যদিকে, রাজধানী জুড়ে কিছু জায়গায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে-এর পেছনে কারণ কি? অনেকেই বলেন,অঙ্ক মেলানো খুবই সহজ। লকডাউনে সেলুন সব বন্ধ। কবে চুল কাটতে পারবে তার ঠিক নেই। তাই চুল ফেলে দেয়া হচ্ছে উত্তম কাজ। তার মধ্যে পড়েছে তীব্র গরম। তাই এক অন্যকে খুনশুটি করা থেকে বিরত থাকতে দলবেঁধে সকলেই চুল ফেলে দিয়েছেন। আবার ন্যাড়া হওয়ার কাজটি থেকে কেউ লোক দেখাদেখিও করছেন ।

এক-কথায় আজকাল-কোয়ারেন্টিন আর করোনার লকডাউন পিরিয়ডে সকলেই ন্যাড়া হয়ে গৃহবাসী হচ্ছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here