পদ্মার পাড়ে শিল্পায়নের ধুম, বদলে যাচ্ছে ভৌগলিক চিত্র

0

padma_bridge_dhaka_report_11302

মোঃ রুবেল ইসলাম.লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)  প্রতিনিধি

ঢাকা: উপজেলার মাওয়া পদ্মার পাড়  বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মান কাজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে মাওয়ার ভৌগলিক চিত্র। এক সময় যে সমস্ত জমিতে ফসল আবাদ হতো সে সমস্ত জমিতে বৃহৎ শিল্প-কারখানা গড়া শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের অনেক বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। ও অনেকেই শিল্পায়নকে পরিকল্পনায় রেখে এইসব এলাকার জমি কিনেছেন। ইতিমধ্যে অনেক শিল্প-প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে মাওয়া পদ্মার এপাড় ওপার এলাকায়।

ছোট বড় ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পদ্মা সেতু এবং গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত হলে মংলা বন্দরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুগান্তকারী উন্নয়ন হবে অনেক।  এই এলাকায় শিল্পায়নের ধুম পড়বে ও  বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি আসবে। সেই সাথে পদ্মা সেতু নির্মিত হলে চাঙ্গা হবে দক্ষিণের অর্থনীতি। বর্তমানে ঢাকার সঙ্গে চট্রগ্রাম বন্দরের দূরত্ব সড়ক পথে প্রায় ২৬৫ -কিলোঃ। পদ্মা সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে মংলার দূরত্ব হবে ১৭০ কিলোমিটারের মতো।

অর্থাৎ চট্টগ্রামের চেয়ে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার কম। এতে পরিবহনের জালানি  খরচ ও সময় দুটিই সাশ্রয়  হবে। মাওয়ার মেদিনী মন্ডল আওয়ামী সাধারন সম্পাদক শেখ জামান বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ এবং গ্যাস এলে এ অঞ্চলে শিল্পায়ন প্রক্রিয়া  অনেক সহজ হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে শিল্প-কারখানা গড়ে  তুলতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা আকৃষ্ট হবেন। মংলা বন্দরে ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য। এ অঞ্চলের লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান হবে।পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে পদ্মাপাড়ে  থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত এবং খুলনার রূপসা সেতুর বিভিন্ন স্থান ও বাগেরহাট সড়কের দুই পাশেও শিল্পোদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রমাণ চোখে পড়ছে।

মংলা বন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যে সেখানে অনেক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠেছে। এ ছাড়া বৃহৎ শিল্প গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে অনেক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী কাজ করছেন। এজন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা এখানে জমি কিনে রেখেছেন। বন্দর ও এর আশপাশের এলাকার জমি কিনেছে দেশের প্রায়  ২০টি  গ্রুপঅপকম্পানী । আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলে জমি কেনা শুরু করে এসব গ্রুপঅপকম্পানী ।

এদের মধ্যে ওরিয়ন গ্রুপ, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, করিম গ্রুপ, মীর গ্রুপ, ইনডেক্স গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাভানা গ্রুপ, সুন্দরবন শিপইয়ার্ড, কেডিএস লজিস্টিকস, বীকন এলপিজি, উত্তরা মটরস করপোরেশন, মংলা সিমেন্ট, ফ্রেশ শিপইয়ার্ড, লিথি  গ্রুপ, সানমেরিন শিপইয়ার্ড, সাইফ শিপবিল্ডিং, মাহবুব ব্রাদার্স লিমিটেড, ফমকম গ্রুপ রয়েছে। এছাড়া  এরই মধ্যে এ এলাকায় শিল্প স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ, হোলসিম সিমেন্ট, ওমেরা পেট্রোলিয়াম, দুবাই বাংলাদেশ সিমেন্ট ও ব্যাগ ফ্যাক্টরি, পিটার পেট্রোলিয়াম। এ অঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের আরও ব্যবসা প্রসারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

দেশের বড় শিল্প গ্রুপগুলোর এ বিনিযয়োগ প্রবণতার কারণে গত তিন-চার বছরের ব্যবধানে এ অঞ্চলে জমির দাম ৩০ থেকে ৩৫ গুণ বেড়ে গেছে। বলতে গেলে রাতারাতিই জমির দাম বেড়েছে। খুলনা-মংলা সড়কের বিশেষত মংলা বন্দরসংলগ্ন ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাস্তার দুই ধারের জমিতে বড় বড় শিল্প গ্রুপের সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। পদ্মা সেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করে ও কোনো কোনো শিল্প গ্রুপ পাঁচ একর থেকে শুরু করে ৩০০ একর পর্যন্ত জমি কিনেছে। গত তিন-চার বছরে এ জমি কেনার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,  মীর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু ও মংলা বন্দরের সুবিধাকে সামনে রেখে কহেক বছর আগে একাধিক শিল্প স্থাপনের জন্য মংলা এলাকায় জমি কেনা হয়েছে।

তবে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও এলপিজি প্লন্ট স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বেশকিছু শিল্প স্থাপনের জন্য কেনা জমিতে আপাতত এলপিজি প্ল্যান্ট ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগোচ্ছেন। কেডিএস লজিস্টিকসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তারা জানান,প্রতিটি শিল্প গ্রুপ দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সামনে রেখে তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রহণ করে থাকে। ঠিক তেমনি পদ্মা সেতুর মতো বড় উন্নয়ন প্রকল্পকে সামনে রেখে শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে মংলাসংলগ্ন এলাকায় জমি কিনেছে কেডিএস লজিস্টিকস।

আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, এর চেয়ারম্যন হাজী এনামুল হক  জানান, পদ্মা সেতু মাওয়া কুচিয়ামোরা এলাকায়  তাদের ৮-৯টি শিল্পায়নের পক্রল্প করার পরিকল্পনা রয়েছে। যার নির্মাণ কাজও ইতিমধ্যে অনেকটা শুরু হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here