ফুলবাড়ীতে নানী-নাতীর মানবেতর জীবন, খোঁজ রাখে না কেউ

0


নুরনবী মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি-

খেয়ে না খেয়ে পড়ে থাকা আর অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় অকালে মরতে হয়েছে মমেনাকে। মাত্র ৫ বছর বয়সী ছেলে সন্তানকে নানীর কাছে রখে গেলেন। বড় দুর্ভাগ্য যে সে নানীও পারে না দু’বেলা দু’মুঠো আহার জোগাতে। বিভিন্ন হাট-বাজারে সাহায্য সহায়তা খুঁজে নিয়ে চিকিৎসা ও দুমুঠো আহার জোগাতো। সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের কারনে সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে পিতৃ-মাতৃ হারা এতিম নাতিকে নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন আলহাজ ও তার নানী সুফিয়া।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাবাইতারী গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী চৌকিদারের (গ্রাম পুলিশ) মেয়ে মমেনা খাতুন (৩০)। মায়ের নাম সুফিয়া বেওয়া ও ৫ বছর বয়সী ছেলে সন্তানটির নাম আলহাজ। প্রায় ৮ বছর আগে উপজেলার পশ্চিম ধনীরাম এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে শাহজালালের সাথে বিয়ে হয়েছিল মমেনার। একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়ার দেড় বছর পর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে সেই সন্তান আলহাজকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন বাবার বাড়িতে। বাবাও মারা গেছেন প্রায় ১৫ বছর আগে। খড়িবাড়ি থেকে নেওয়াশী রোড ঘেষে মাত্র দেড় শতক জমিতে ঝুপড়ি ঘরে থাকেন মমেনা। বৃদ্ধ মা সুফিয়া ও ছেলে আলহাজকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনোরকমে দিন পার করেন মমেনা। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে ৬ এপ্রিল ভোরবেলা মারা যান সুফিয়ার মেয়ে মমেনা।

মমেনার মা সুফিয়া বেওয়া (৫৬) নাতি আলহাজকে কোলে নিয়ে বসে আছেন ঘরের দরজায়। মেয়েকে হারানোর বেদনায় পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, ছওয়াটার মাও মরি গেইল, এখন কি হইবে? এই নাতিটা ছাড়া মোর আর কাঁইয়ো নাই। ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে কোন সহায়তার জন্য গিয়েছেন কিনা তা জানতে চাইলে বলেন, চেয়ারম্যানের বাড়ি কোথায় তা তিনি কখনও দেখেন নাই এবং কিছু জানেনও না। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুরকে সাহায্যের কথা বলেছিলেন। তিনি দিবে দিবে করে কোনও সহায়তা দেন নাই। আমি এখন এই অবুঝ শিশুটিকে নিয়ে ভাঙাচোরা ঘরে কোনোরকমে দিন যাপন করছি।

স্থানীয় হাফেজ মাওলানা শফিক জানালেন, মমেনা এই এলাকার একজন অসহায় মেয়ে। আমি মমেনার অসুস্থের কথা শুনে তাকে দেখতে যাই। আমাদের চেয়ারম্যান ফেইজবুকে নম্বর পোস্ট করেছে দুঃস্থ-অসহায় লোকেরা ফোন করলেই খাদ্য পৌঁছে দিবেন। মমেনার দুর্দশা দেখে সেই নম্বরে ৭ বার ফোন করেও কোনো সাড়া পাই নাই। তার পরে অন্য এক লোক রিসিভ করে বলেন চেয়ারম্যান সাহেব ব্যস্ত। আমি তার সহায়তার জন্য অনেক জায়গায় যোগাযোগ করি। পরে সকালে জানতে পারি মমেনা ভোরবেলা মারা গেছেন। মমেনার ৩৬’শ টাকা দেনা ছিলো। সেটা পরিশোধের জন্য দাফনেও আসে বাঁধা। পরে সকলের সহায়তায় দেনা পরিশোধের পর দাফন হয়। কিন্তু এখন এই এতিম বাচ্চাটির কি হবে।

ভাঙ্গামোড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করার পর তিনি জানান, বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুমা আরেফিন জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে সহায়তা প্রদানের জন্য বলা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here