ফের একই নির্মমতার শিকার ভারতের কেরালায় আরও একটি হাতি

0


আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা: একদিন আগেই ভারতের কেরালায় একটি গর্ভবতী হাতিকে আনারসের সঙ্গে বিস্ফোরক খাইয়ে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে গোটা বিশ্ব জুড়ে,সামাজিক মাধ্যমে। এবার ফের ভারতের বন অধিদপ্তর জানিয়েছে আরেকটি হাতিকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বন অধিদপ্তরের কর্মীরা জানিয়েছেন,কল্লাম জেলায় পাওয়া ওই হাতিটির চোয়াল ভেঙে গিয়েছিল। পথানাপুরাম জঙ্গলের কাছে সেই আহত হাতিটিকে দেখতে পেয়েছিলেন বন কর্মীরা। তাকে ধরে ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা। কিন্তু হাতিটি জঙ্গলে ঢুকে যায়। এর পরের দিন হাতিটি মারা যায়। ওই হাতিটির ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনও হাতে পাননি তারা। তবে ওই হাতিটির মুখেও গভীর ক্ষত ছিল। আর সেটা বিস্ফোরকের জন্য বলেই মনে করছেন বনকর্মীরা।

ভারতের ও কলকাতার গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়,বিস্ফোরক দিয়ে হাতি তাড়ানোর এই রেওয়াজ ভারতের কেরালায় অনেকদিন আগে থেকেই। এর আগে মারা যায় হাতিটির-ময়না তদন্তের,রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাজিতে শরীর ফাটলেও গর্ভস্থ সন্তানের কষ্ট কমাতেই মাঝ নদীতে দাঁড়িয়ে মারা যায় হাতিটি,জানা গেল তদন্ত রিপোর্টে।

গর্ভবতী এক বুনো হাতিকে আনারসের মধ্যে বাজি ভরে খাইয়ে দিল পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জীব। খাবারের খোঁজে গ্রামে এসেছিল অন্তঃসত্ত্বা হাতিটি সরল বিশ্বাসে গ্রামবাসীদের দেওয়া সেই আনারস খেয়েও নেয় সে । তারপরেই ঘটে সেই নৃসংশ ঘটনা মুখের মধ্যেই একের পর এক বাজি ফাটতে থাকে । মুখ, শুঁড় রক্তে লাল হয়ে যায় তার । অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে গোটা গ্রাণ ছুটতে থাকে সে। শরীরের জ্বালা একটু নিবারণের আশায়। কিন্তু বৃথাই সে চেষ্টা। আধুনিক, উন্নত এই জীবের বুদ্ধির সঙ্গে কেমন করে পেরে উঠবে অসহায় এক মা?

এদিকে তার গর্ভে ছয় মাসের সন্তান । যে কোনও জাতিতেই হোক আর যে কোনও রূপেই হোক না কেন, মায়ের চরিত্র সবসময়ই এক। সন্তানকে আগলে রাখতে পৃথিবীর সব মায়েরাই জীবনের শেষ প্রাণ শক্তিটুকুও সমর্পণ করে দিতে পারে। নৃশংস ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন ভারতের কেরালার নিলাম্বুরের সেকশন ফরেস্ট অফিসার মোহন কৃষ্ণণ। তিনিই হাতিটির ময়নাতদন্ত করেন । তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, ”দুই দশকের বেশি কর্মজীবনে ২৫০-রও বেশি হাতির আমি ময়নাতদন্ত করেছি। এই প্রথম কোনও মৃত্যু এতটা নাড়া দিয়ে গেল। হাতে মৃত ভ্রুণটিকে নিয়ে নিজেকে সামলাতে পারিনি।

প্রথমে ধারণা ছিল না হাতিটি গর্ভবতী।” শুধু তাই নয়, কৃষ্ণণ বলেন, ‘‘হাতিটির মধ্যে একটা -সেন্স কাজ করেছিল। সে জানতো তার মৃত্যু আসন্ন। শুঁড় সহ গোটা শরীর রক্তময়, যন্ত্রণায় জ্বলছিল সারা দেহ। এই অবস্থায় সে তার সন্তানের কথা ভেবে চলে যায় নদীর মাঝে জলের মধ্যে। যাতে সেই রক্তাক্ত জায়গায় পোকা-মাকড় না বসে। যতক্ষণ প্রাণ ছিল সে চেষ্টা করেছিল যাতে তার সন্তানের কষ্ট একটু হলেও কম হয়।

আর শেষ অবধি সে ওই মাঝ নদীতেই প্রাণ ত্যাগ করে।” পরে, খবর পেয়েই ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে যান বনদফতরের আধিকারিকরা । হাতিটিকে নদীর পাড়ে নিয়ে এসে শুশ্রূষা করার বহু চেষ্টা করা হয় । কিন্তু মানুষকে বিশ্বাস করার মতো ভুল দ্বিতীয়বার আর করেনি সে । কোনও ভাবেই তাকে মাঝ নদীতে থেকে সরানো যায়নি । শেষে দু’টি কুনকি হাতির চেষ্টায় যখন তাকে পাড়ে আনা হয়, তখন তার মৃত্যু হয়েছে ।

ভারতের এই কেরল: আদিবাসীদের এই কাণ্ডে স্তম্ভিত গোটা দেশ । এমন নৃশংস হতে পারে শুধু মানুষই। গোটা দেশের যেন আজ লজ্জায় চোখ অবনমিত । কেরলে পলক্কড় অঞ্চলের সাইলেন্ট ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের ঘটনা যেন আরও একবার ভারতবাসী সহ গোটা বিশ্বের মানুষকে, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, নিজের প্রয়োজনে কতটা হিংস্র হতে পারে এই জাতটা ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here