বজ্রপাতে নিহতের লাশ চুরি ঠেকাতে কবর পাহারায় স্বজনরা

0


নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত এক কলেজ ছাত্রের লাশ চুরি ঠেকাতে কবরের পাশে পাঁচদিন ধরে দিনেরাতে পাহারা দিচ্ছেন নিহতের স্বজনরা। পাহারাকারীদের জন্য চা-নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নিয়মিত।

সরজমিনে শনিবার দুপুরে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ঘোগারকুটি গ্রামে চোখে পরে এই দৃশ্য। নিহত কলেজ ছাত্রের কবরের পাশে পলিথিনের তাঁবুর কাঠের চৌকি বসিয়ে বসার এবং শোয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাশ চুরি ঠেকাতে নিহতের স্বজনেরা এ ভাবে আগামী তিন মাস পাহারা দিবেন বলে জানান নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম, মামা মফিজুল হক, মামি কুলসুম বেগম, স্থানীয় আশরাফুল ও আনছার আলী।

জানা যায়, নিহত আরিফুল কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কুমোরপুর কদমতলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। সে ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ছোট বেলা থেকেই নানার বাড়ীতে থাকত এবং সেখান থেকেই পড়াশুনা করত। গত ১লা সেপ্টেম্বর সকালে বৃষ্টি আসার পরে কলার ভেলায় করে নীলকমল নদীতে পলিথিন দিয়ে শ্যালো মেশিন ঢাকতে যায়। এসময় বজ্রপাতে মারা যায় সে। নানা বাড়ীর পাশেই মায়ের ক্রয়কৃত জমিতেই তার মর দেহ দাফন করা হয়।

এদিকে কবিরাজী শাস্ত্রের ভয়ে বজ্রপাতে মারা যাওয়া কলেজ ছাত্র অবিবাহিত হওয়ায় তার মাথা মূল্যবান। তাই লাশ চুরি ঠেকাতে গত ৫দিন যাবৎ কবর পাশে স্বজনেরা পাহারা দিচ্ছেন।পালাবদল করে নিহতের নানা আজগার আলী, মামা হাফিজুর রহমান, স্বপন, সোহাগ ও আরিফুলের ছোট ভাই আশিকুর রহমান পাহারা দেন। দিনে ও রাতে সমান ভাবেই জেগে কবর পাহারা দিচ্ছেন তারা।

নিহত আরিফুল ইসলামের মামা মফিজুল হক ও মামি কুলসুম বেগম জানান, ভাগ্নে আরিফুল আমাদের অনেক আদরের ছিল। ছোট্র থেকে আরিফুলের মা রাহিলা বেগমসহ তার ৩ ছেলে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে দেখাশোনা করেছি। বর্তমানে আরিফুলের মা রাহিলা বেগম জর্ডানে রয়েছেন। আরিফুলের বাবা-মা পাশে না থাকলেও ৩ ভাইবোনকে আমরা আদর করা হয়।এর মধ্যে আরিফুল হঠাৎ বজ্রপাতে মারা যায়। বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির লাশের মাথা কবিরাজী শাস্ত্রে না কি অনেক মূল্যবান। সে জন্য লাশটি চুরির আশঙ্কায় আমরা রাতদিন ভাগিনার কবর পাহারা দিচ্ছি।

নানা আজগার আলী জানান, আরিফুল ইসলামের বাবা শহিদুল ইসলাম তার মা রাহিলা বেগমকে ডিভোর্স দেয়। তখন আরিফুল ইসলামসহ তার ৩ ভাই-বোন ছিল শিশু। ৩ শিশুকে নিয়ে রাহিলা বেগম আমার বাড়িতে থাকেন। অনেক কষ্টে ৩ সন্তানকে লালন পালন করেছেন। আরিফুল এসএসসি পাশ করার পর রাহিলা বেগম পাড়ি জমান জর্ডানে। জর্ডান থেকে বড় ছেলে আরিফুল ইসলামের নামে টাকা পাঠাতেন। ভালভাবে লেখাপড়ার জন্য খোঁজ খবর নিতেন তার মা। বড় স্বপ্ন ছিল আরিফকে নিয়ে। কিন্তু দরিদ্র সংসারের সে আশা লন্ডভন্ড হয়ে গেল। নাতির কবর পাহারা দেবার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কিছু না বললেও কবরের পাশে পাহারা দেবার কথা স্বীকার করেন।

বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানান, বজ্রপাতে কলেজ ছাত্র আরিফুল ইসলাম মারা গেছে কিন্তু রাতদিন কবর পাহারা দিচ্ছেন তা আমার জানা নেই।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির কঙ্কালে কোনো মূল্যবান জিনিস থাকতে পারে না। এটা কুসংস্কার ও অযৌক্তিক। বজ্রপাতের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কঙ্কালের কোনো সম্পর্ক নেই। বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির কঙ্কালে মুল্যবান কিছু আছে তা সম্পুর্ণ ভুল ধারনা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here