বাঁচা মরার’করোনা যুদ্ধে’শেখ হাসিনার নেতৃত্বে,জয়ী আমাদের হতেই হবে

0


বাঁচা মরার ‘করোনা যুদ্ধে’ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে,জয়ী আমাদের হতেই হবে। জয়ী আমরা হবই।

——————অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু

‘করোনা’ নামক এক প্রাণঘাতি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্ব আজ টালমাটাল। কোনভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। চীনের উহান শহরে এর উৎপত্তি হলেও বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে এখন তা বিস্তৃতি লাভ করেছে। বিশ্বের সকল পরাশক্তি দেশগুলিও করোনার কাছে পর্যদুস্ত। কোন ভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও এতগুলি দেশ আক্রান্ত হয়নি। করোনা ভাইরাসের করালগ্রাস থেকে রক্ষা পাইনি আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশও। গত একমাস আগে বাংলাদেশে তার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এখন তা সারা দেশে বিস্তৃতি লাভ করছে।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ এরকম ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে আর কোনদিন পড়েনি। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশকেও তছনছ করে দিয়েছে। সারা বাংলাদেশে এখন কার্যত অচল। সব অফিস আদালত,মিল কারখানা ও জীবন ধারণনের জন্য অপরিহার্য কিছু দোকানপাট ছাড়া সবকিছুই এখন বন্ধ। কতদিন এই অবস্হা চলবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। নিন্ম আয়ের শ্রমজীবী মানুষজনই শুধু নয় নিন্মমধ্যবিত্ত, এমনকি মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষজনও এক চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। একদিকে মরণব্যাধি করোনার আতংক অন্যদিকে দুমুঠো ভাত সংগ্রহের লড়াই। সবমিলিয়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। সরকারি তথ্যমতে বাংলাদেশে যে পরিমান খাদ্য মজুত রয়েছে তা দিয়ে কয়েকমাস চলবে। তবে এই খাদ্য ঘরে ঘরে পৌছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা বীরদর্পে এই বিপর্যয় মোকাবেলা করছেন। তিনি যখন যেখানে যা দরকার তাই করছেন। তিনি তাঁর সামর্থের মধ্যে সবকিছুই করে যাচ্ছেন। অদম্য সাহস নিয়ে তিনি দুঃসাহসিক কান্ডারি হিসাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশ্বের মহাপরাক্রমশালী আমেরিকা সহ বিশ্বের সর্বোন্নোত ফ্রান্স,ইটালি,জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মত দেশও আজ করোনা যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত,পর্যদুস্ত । সে সব দেশে আজ মৃত্যুর মিছিল রাত পোহালেই লম্বা হচ্ছে । আধুনিক এত এত সুযোগ সুবিধা থাকার পরও তারা কোন ভাবেই তারা মৃত্যু ঠেকাতে পারছে না। সেখানে শত সমস্যার জর্জরিত, সদ্য মধ্যবিত্ত আয়ের দেশে নাম লেখানো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র মনের জোরে এই অসম যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন। এককভাবে এই যুদ্ধ তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি দেশে বিরোধী দল এইসব জাতীয় সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের বাংলাদেশে সরকারের সকল কাজের সমালোচনা করে মিডিয়ায় বিবৃতি দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন কর্মকান্ড চোখে পড়ছে না। তাদের আচরণে মনে হয় একটি দেশের সকল দায়দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারের। এখানে বিরোধী দলের কোন দায়দায়িত্ব নেই। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয় বাম সংগঠনগুলি সারা বিশ্বে এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও করোনা বিরোধী এই যুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে যথেষ্ট তৎপর কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে বাম সংগঠন গুলির এ
ব্যাপারে কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। কতিপয় রাজনৈতিক নেতা এবং সুশিল সমাজের যে সকল প্রতিনিধি দেশপ্রেমের ঠেলায় টকশো’তে টিভির পর্দা ফাটিয়ে ফেলেন জাতির ক্রান্তিলগ্নে তাদের টিকিটিও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমেরিকার নির্বাচনে একটি দলের ফান্ডে বিপুল পরিমান অর্থ ডোনেশন প্রদাকারি নোবেল জয়ী ডক্টর ইউনুস সাহেবরা এখন কোথাও? বিভিন্ন ইস্যুতে যত্রতত্র জাতিকে জ্ঞানদানকারি আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ডক্টর কামাল হোসেন,সুজন এর বদিউলআলম,দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সাহেবরা জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে কোথায় আছেন জাতি জানে না। জাতির এই কঠিন মুহুর্তে তাঁরা সরকারের পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতা করবে এমনটাইতো জাতির প্রত্যাশা ছিল।

এমনই একটা ভয়ংকর মুহুর্তে একজনমাত্র মানুষ জাতির জনকের কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল সীমাবদ্ধতা, বাধাবিঘ্ন, ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে হিমালয়ের মত সমগ্র বাঙালি জাতিকে আগলে রেখেছেন। তিনি নিজে সবকিছু মনিটরিং করছেন, এই ভয়াবহ কোরনা যুদ্ধে বীরদর্পে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি নিজে সারাদেশে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ডিসি, সিভিল সার্জন,এসপি সহ যখন যেখানে যাকে দরকার তার সাথে ভিডিও কনফারেন্স করে যথাযথ নির্দেশনা দিচ্ছেন। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে দেশের জমগণের কি করনীয় সেই নির্দেশনা দিচ্ছেন। একটি যুদ্ধ জয়ের প্রধান শক্তি সাহস। প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল ডাক্তার,প্রশাসন প্রশাসনিক কমকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দেশের জনগণকে সাহস যোগাচ্ছেন। এককথায় একজন সফল রাষ্ট্র নায়কের যা যা করণীয় তাই করছেন।

ভয় নেই জননেত্রী শেখ হাসিনা। আপনি এগিয়ে যান। আপনি জাতিরজনকের সুযোগ্য কন্যা। আপনি বিশ্বস্বীকৃত মাদার অব হিউম্যানেটি। পঁচাত্তরে আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,আপনার জন্মদাত্রী জননী,ভাই, ভাবি সহ পরিবারের সকলকে নির্মমভাবে হত্যার পর সকল দুঃখ বেদনা বুকে চেপে রেখে অসহায় এই বাঙালি জাতির হাল ধরেছেন। এই দুর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে আপনি বহুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। সর্বশেষ ২০০৪ এর গ্রেনেড হামলায় নিশ্চিত মৃত্যুর দুয়ার থেকে পরম করুনাময়,মহান সৃষ্টিকর্তা তাঁর রহমতের ছায়া দিয়ে আপনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আপনি আপনার বাবার মত নিজের জীবনের চেয়েও এদেশের মানুষকে বেশী ভালোবাসেন। এজন্যই মহান রাব্বুল আলামিন আপনাকে বারবার মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এদেশের জনগণের মঙ্গলের জন্যই সৃষ্টিকর্তা আপনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আপনি আজ বাংলাদেশেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে উন্নোয়ন ও মাবতার রুল মডেল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের এই মহাদুর্যোগ থেকেও মহান সৃষ্টিকর্তা আপনার প্রিয় দেশবাসীকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ। সমগ্র বাঙালি জাতি এই মহাদুর্যোগে আজ আপনার পাশে রয়েছ। আপনার সাথে রয়েছে এদেশের ১৭ কোট মানুষ। আপনি বীরদর্পে এগিয়ে যান। আপনি বাঙালি জাতির আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্হল। আপনি অন্ধকারে আলোর দিশারি। বাঙালি কোনদিন হারেনি। বাঙালি হারতে পারে না। আপনার নেতৃত্বে এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। জয়ী আমরা হবই।

সবাই যার যার ঘরে অবস্থান করুন । করোনা যুদ্ধ জয়ের প্রধান ‘রণকৌশল’ হলো যার যার ঘরে অবস্থান করা। নিজেরা নিরাপদে থাকুন অন্যদেরকে নিরাপদে থাকতে উৎসাহিত করুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।
জয়বাংলা।

লেখক: অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, কারানির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা ও সাধারণ সম্পাদক স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ। সচিব,বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট,শিক্ষা মন্ত্রনালয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here