ব্রিটেনের নির্বাচন কমিশন রূপকথার গল্পের মতো

0


11216412_628184057317190_2101627038_n

আব্দুল আলিম

ঢাকা: বাংলাদেশের নির্বাচনে দলীয় প্রভাব ঠেকাতে নির্দোলীয় নির্বাচন কমিশনার ও কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে কঠোর পাহারার ব্যবস্থার পরও মোকাবেলা করা সম্ভব হয় না। রিটার্নিং কর্মকর্তারা কোন দলের হবে এটা তো কল্পনাই করা যায় না।

তবে ব্রিটেনের নির্বাচন কমিশনারদের কয়েকজন রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত সদস্য। ডিস্ট্রিক বা জেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেয়র বা ডিসি’রা রির্টানিং অফিসারসহ এমন অনেক তথ্য আছে যা বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যালোচনা করলে ‘রূপকথার গল্পের’ মতো মনে হবে।

এক নজরে ব্রিটেনের ইলেকশন কমিশন:

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশন দশ সদস্য বিশিষ্ট একটি বডি। নাম ‘ইলেক্ট্ররাল কমিশন’। কমিশনের বর্তমান প্রধান (চেয়ারম্যান) একজন নারী। নাম ‘জেনি ওয়াটশন’। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যে দেখা যায় তিনি  অন্যান্য কয়েটি সংস্থার সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন।

বাকী ৯ জন কমিশনার অল্প সময়ের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত। এই কমিশনারদের মধ্যে ৪ জনই চারটি রাজনৈতিক দল থেকে এসেছেন। এরা হলেন-ব্যারোনস্ ব্রাওনিং ‘কনজার্ভেটিভ পার্টির’, ডেভিড হাওয়ার্ট ‘লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির’, লর্ড কেনেডি ‘সাউথওয়ার্ক লেবার পার্টির’ এবং জর্জ রিড ‘স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির’।

নিয়ম অনুযায়ী প্রধান তিন দল থেকে স্পিকারের মাধ্যমে তিনজন প্রতিনিধি দেয়া হয়। যারা সে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা কিন্তু ভোটে দাড়াননি। ছোটদল থেকেও প্রতিনিধি আসতে পারে, তবে ছোট দল থেকে আসা নির্বাচন কমিশনারদের মেয়াদ বড় দল থেকে আসা কমিশনারদের চেয়ে কম হবে।
কমিশনারদের মেয়াদ চাইলেই বাড়ানো হয়। দল থেকে আসা এই নির্বাচন কমিশনাররা দলীয় পদে এসময় থাকবেন, কিন্তু দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নিতে কিছু বাধা আছে। আর বাকী পাচঁজন যারা কমিশনার হয়েছেন তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রের এক্সপার্ট মানুষ।কমিশনারদের সবাই স্বেচ্ছামূলক কাজ করবেন। তবে তাদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতা রয়েছে।

ব্রিটেনের নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সংস্থা হলেও পার্লামেন্টের কাছে তারা দায়বদ্ধ। এই কমিশনারদের জন্য যে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ দেয়া আছে তাতে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনাররা ইম্পারশিয়াল থাকবেন (নিউট্রাল শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি)। বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত বাইরে জানানো যাবে না। ফেসবুক বা টুইটারে কোন দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক কিছু লেখা যাবে না। কোনো গিফট বা আতিথেয়তা গ্রহণে তাদের সতর্ক থাকতে হবে ইত্যাদি।

কমিশনারদের কেউ গিফট দিলে তা নেয়ার ক্ষেত্রে ওই গিফট নিলে কোনো ব্যক্তি বা দল তার দ্বারা লাভবান হওয়ার চান্স আছে কিনা সেটা কমিশনারকেই বিচার করতে বলা হয়েছে কোড অব কন্ডাক্টে। এক্ষেত্রে যদি লাভবান না হয় তাহলে ‘গিফট’ তিনি নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের অনাপত্তি থাকতে হবে এবং তা কমিশনের ওয়েব সাইটে জানিয়ে দিতে হবে।

তাদের কমিশন ওয়েব সাইটে কমিশনারদের ভাতা ও খরচ গুরুত্বসহকারে দেয়া আছে। প্রধান কমিশনারের প্রায় প্রতিদিনের খরচের হিসাব ওয়েবসাইটে আপলোড করা আছে।  এমনকি কমিশনাররা কোথায় কোন কাজে গেছেন, তার গাড়ি ভাড়া (বাস ট্রেনের নামসহ), কি খেয়েছেন (খাবার মূল্যসহ), কোথায় থেকেছেন রুম ভাড়াসহ সব লেখা রয়েছে।  ব্রিটেনের নির্বাচনে ‘রিটার্নিং অফিসার’ নির্বাচন কমিশনের কেউ থাকেন না। এছাড়া, নিজস্ব লোকবল তাদের খুবই কম। ডিস্ট্রিক বা জেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেয়র বা ডিসিরা রির্টানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।

অবশ্য সব জায়গার রির্টানিং অফিসারের দায়িত্ব এক নয়। স্কটল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের রির্টানিং অফিসারের দায়িত্ব পালনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

11216128_628184190650510_279465881_n

উল্লেখ,সেদেশে নির্বাচনের সময় ব্যালোট পেপারে কোন ছিল নয় নাম প্রতীকের পাশে ‘কাটা চিহ্ন’ দিতে হয়। এছাড়া, সেদেশের রাজনীতিবীদদের কথা বা প্রতিশ্রুতি জনগণ শুনতে চায় না।তারা আগে থেকেই প্রার্থীদের সম্পর্কে জানে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here