ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: কী চাইছেন মমতা ?

0

1429186923

নিউজ ডেস্ক, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা: ঢাকায় পৌঁছে অন্তত একশো লোকের কাছে এই প্রশ্ন শুনেছি। এক কথায় এর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি। শুধু এটুকু বলা গিয়েছে, মনমোহন সিংহের ঢাকা সফরের সময় যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল তার থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে চান মমতা।

সেটা বোধহয় চায় ঢাকাও। ঢাকা থেকে কলকাতা ফেরার সময় যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেখ হাসিনার নৈশভোজে পুরোপুরি থাকতে পারেন, তার জন্য প্রস্তাব এসেছিল রাত ন’টার এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটির ছাড়ার সময় বদলে দেওয়া হোক। এক ঘণ্টা বাদে বিমানটি ছাড়লে মমতা পুরো নৈশভোজটি থাকতে পারেন।

মমতার ওই নৈশভোজে থাকার কথা ছিল না। স্থল সীমান্ত চুক্তিতে উপস্থিত থেকে মমতা চলে আসতে পারতেন। কিন্তু, শেখ হাসিনা নিজে ফোন করেন মমতাকে শুক্রবার রাতে ঢাকা পৌঁছতে না পৌঁছতেই। অনুরোধ ছিল যাতে নৈশভোজে মমতা থাকেন। মমতা অনুরোধ রক্ষা করেন। সোনার গাঁও হোটেলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি দেখেন। মুক্তিযুদ্ধের উপরে তৈরি একটি গীতি আলেখ্য শোনেন। শোনেন রবীন্দ্রনাথের গান। তার পর নৈশভোজ শুরু হয়। মমতা একটি স্যুপ আর একটু ধোকলা খেয়ে উঠে পড়েন।

দুই প্রধানমন্ত্রীকে মমতা আগাম জানিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি যাতে দেরিতে না ছাড়ে, যাত্রীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারেও মমতা সজাগ ছিলেন। বিমানে উঠে ওয়ান-এ আসনে বসে পিছনে যাত্রীদের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘‘নো-ডিলে। আই অ্যাম অন টাইম।’’

এ বারে প্রধানমন্ত্রীর সফরে মমতার সঙ্গে দু’দিন থেকে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করতে বিশেষ ভাবে উৎসাহী। কলকাতা থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে আগরতলা— এই বাস যাত্রার ব্যবস্থাপনায় ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পরিবহন সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় যাত্রীদের নিয়ে কলকাতা থেকে ঢাকা, সেখান থেকে আগরতলা হয়ে ফের ঢাকা হয়ে কলকাতা ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের ভিতর এই বাসটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন সবুজ পতাকা উড়িয়ে। নরেন্দ্র মোদীর পাশে উপস্থিত ছিলেন হাসিনা ও মমতা।

অসম এবং ত্রিপুরার বাসগুলির তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের বাসটি ছিল অনেক বড়, আধুনিক এবং সুদৃশ্য। এটি কিন্তু সকলের চোখে পড়েছে। এ প্রশ্নও উঠেছে, তরুণ গগৈ আর মানিক সরকার ছিলেন না বলেই কি তাঁরা এ ব্যাপারে সে ভাবে মনোযোগ দেননি? মমতা এখানেই থামেননি। মালদহ থেকে রাজশাহি— নতুন বাস চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এবং মমতা জানিয়েছেন, এই বাস চালু হলে তিনি নিজে বাসে করে আসবেন।

মমতার সঙ্গে শেখ হাসিনার সম্পর্ক কিন্তু অনেক দিনের। মনে আছে, শেখ হাসিনা তখন বিরোধী নেত্রী। এক বার দিল্লিতে এসে অশোকা হোটেলে ছিলেন। মমতা তখন সংসদ সদস্য। দিল্লির ফ্ল্যাট থেকে অশোক হোটেল গিয়ে হাসিনার সঙ্গে নৈশভোজ করলেন। সে দিন গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা হয়েছিল। শেখ হাসিনার জীবনীকার তাঁর ঘনিষ্ঠ এক প্রবীণা সাংবাদিক বেবি মাওদুদ মমতারও বিশেষ ঘনিষ্ঠ। সে সময় তিনি ছিলেন দু’জনের মধ্যে খুব সক্রিয় একটি সেতু।  মমতা তাঁকে ডাকেন বেবিদি বলে। মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে কলকাতায় গিয়ে সেই বেবিদি-ও তাঁর দেখা করেছিলেন। বয়সের ভারে হয়তো আগের মতো সক্রিয় নন। কিন্তু, এখনও মমতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

মনমোহন সিংহ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সাউথ ব্লকের ‘দাদাগিরি’ মমতাকে রুষ্ট করায় পরিস্থিতিটা বিগড়ে যায়। এমন পরিস্থিতি দাঁড়ায় মমতা যেন শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের শত্রু। আর বাংলাদেশে তিস্তা এমন একটা সেন্টিমেন্ট যে বাংলাদেশের সেই মনোভাবটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশ মন্ত্রক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলাম। টের পেয়েছিলাম, সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা কতখানি চটে আছেন মমতার উপরে। এমন প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছিল, মমতা জামাতদের বন্ধু হয়ে গিয়েছেন। তলে তলে বিএনপি মমতাকে মদত দিচ্ছে। ভাষা দিবসের সময় মমতা গিয়ে সেই ক্ষতটা অনেকটা নিরাময় করেছেন। আর এ বার সেই জায়গা থেকে কয়েক ক্রোশ আরও এগিয়ে গেলেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে, কোনও অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের অনুমতি ব্যতিরেকে অন্য কোনও রাষ্ট্রে যেতে পারেন না। ফেব্রুয়ারি মাসে মমতার ঢাকা সফরও প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি হয়, তাতে তাঁর উৎসাহও ছিল।

ঢাকা শহরে মমতার সফর কাছ থেকে দেখে মনে হয়েছে, মমতা নিজে কিন্তু তিস্তা চুক্তির জট ছাড়াতেও আগ্রহী। তিনি বার বার বলেছেন, আমি বাংলাদেশ বিরোধী নই। আমি তিস্তা চুক্তির বিরোধী নই। আমি পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ করে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চনার হাত থেকে বাঁচাতে উৎসাহী। প্রধানমন্ত্রী তাই মমতাকেই এই দায়িত্ব দিয়েছেন। এই সমস্যা সমাধানে এখন মমতা সক্রিয়। আ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here