ভূতের বিল বানিয়ে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি দিয়ে হয়রানির-জড়িতদের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা

0


সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা: দেশে যখন করোনা মহামারি চলছে,তখন বিদ্যুতের বিভিন্ন গ্রাহকের নামে গত কয়েক মাসে ভুতুড়ে বিল করার অভিযোগ উঠেছে অনেক এলাকাতেই। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মুঠোফোনে, সময় সংবাদ বিডিকে, জানিয়েছেন অনেক গ্রাহক।

তাদের অভিযোগ, দেশের এই ক্রান্তিকালে বিদ্যুৎ বিল কর্তৃপক্ষ,অতিরিক্ত বিল বানিয়ে আদায় করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন, বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা। সরোজমিনে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষ বর্তমান যে, বিল বানিয়ে দিচ্ছে তা মিটারের রিডিং এর সঙ্গে‌কোন প্রকার সামঞ্জস্য’ বা মিল নেই ,এতে করে ভুক্তভোগী হচ্ছেন বহূ গ্রাহক।

প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে, বিদ্যুৎ বিল বেড়ে -চারগুণ কি করে সম্ভব ? । একথায় ভুতের বিল ‘বা’গায়েবি বিদ্যুতের বিল বানিয়ে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি,দিয়ে যাচ্ছে,সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা,শহর ও গ্রাম জুড়ে।

বিশেষ করে, রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা মধ্যবাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, মালিক বাগ,বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট সহ -ঢাকার বিভিন্ন এলাকা,গ্রাম ওশহরেজুরে এরকমই অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দেশের এই চলমান পরিস্থিতিতে,এই করোনাকালে এই বিল পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে গ্রাহকরা।

এইদিকে,এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে, অবশেষে বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া কোনো গ্রাহককে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হবে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের ও এর আওতাধীন দপ্তর ও কোম্পানির বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত বিল করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

অন্যদিকে,মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,সভায় আলোচনাকালে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রদানের বিষয়ে পর্যালোচনা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়,আগামী সাত দিনের মধ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রদানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিভাগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। কোনো অবস্থায় অতিরিক্ত বিল গ্রহণ করা যাবে না।

এ সময়, একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয় সভায়। সভায় বিতরণ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা অতিরিক্ত বিলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানান, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রদান সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে সংস্থাগুলো আলাদা আলাদাভাবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে ব্যাখ্যা করবেন।

তাছাড়া,সভায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প, পিডিবির বিদ্যুৎ হাব, স্মার্ট মিটারসহ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পেপারলেস অফিস করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে, গতকাল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) একটি সংলাপে অংশ নিয়ে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ স্বীকার করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এর জন্য বিদ্যুতের ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোকে দায়ী করেন তিনি।

এসময় প্রতিমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত বিল নিয়ে দুচিন্তার কিছু নেই। কাউকে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হবে না। মিটার দেখে সবার বিল সমন্বয় করে নেয়া হবে।

আজকের এই ভার্চুয়াল সভায় বিদ্যুৎ সচিব সুলতান আহমেদ,পিডিবির চেয়ারম্যান মো.বেলায়েত হোসেন,আরইবির চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন,পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন এবং দপ্তর ও কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here