মহামারিতে সাহাবী (রাঃ)-দের শাহাদাত বরন

0


আবু লাইবাহ, সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা:অনেক স্বপ্ন বিশ্লেষণকারী এবং গবেষকদের দাবী করোনা ভাইরাস শুধু কাফেরদের হবে কারন ওরা হারাম পশু ভক্ষন করে।। অনেক বড় হুজুরদের দাবী ছিলো যারা মুমিন মুসলিম তাদের কখনো করোনা মহামারিতে আক্রান্ত হবে না।

অনেক কঠিন ঈমানদারদের দাবী মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হবে না, অনেক হুজুরদের দাবী মুসলিমদের উপর অত্যাচার করার কারনে শুধু কাফেরদের উপর আযাব হবে মুসলিমরা বেঁচে যাবে। উপরের দাবীগুলা যারা করেছ তারা কতটুকু ইসলাম সম্পূর্ণ বলেছে সেটা আপনারাই বিচার বিশ্লেষণ করবেন ইন’শা আল্লাহ।।

নিচের এই ঘটনা মোটামুটি সবার দাবী যে ভুল সেটা প্রমান হবে ইন’শা আল্লাহ।। যদি আপনি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর উপর পরিপূর্ণ ঈমান রেখে থাকেন আপনার অন্তরে আর কোন প্রশ্ন আসার কথা নয়। আমীরুল মুমিনিন হযরত উমর (রাঃ) এর শাসনামলে সাহাবীদের সময়ে একবার মহামারি প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।।

সিরিয়ায়-প্যালেস্টাইনে এ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে শাহাদাতবরণ করেন অনেক সাহাবী। তার মধ্যে ছিলেন আবু উবাইদাহ (রাঃ), মুয়াজ ইবনু জাবাল সহ রাসুল (সাঃ)-এর চাচাতো ভাই ফুজাইল ইবন আব্বাস, আবু জান্দান বিন সুহাইল,হারিস ইবন হিশাম, আবু মালিক আশআরিসহ অনেক প্রথম সারির সাহাবি শাহাদাত বরণ করেন।

উমর (রাঃ) সিরিয়ার উদ্দেশ্যে ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে রওয়ানা হয়েছিলেন। ‘সারগ’ নামক জায়গায় পৌছার পর সেনাপতি আবু উবাইদাহ (রাঃ) খলিফাকে জানালেন, সিরিয়ায় তো প্লেগ দেখা দিয়েছে। উমর (রাঃ) প্রবীণ সাহাবীদেরকে পরামর্শের জন্য ডাকলেন। জানতে চেয়েছেন, এখন কী করবো? সিরিয়ায় যাবো নাকি যাবো না? সাহাবীদের মধ্য থেকে দুটো মত আসলো।

একদল বললেন,আপনি যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, সে উদ্দেশ্যে যান”। আরেকদল বললেন,আপনার না যাওয়া উচিত”। তারপর আনসার এবং মুহাজিরদের ডাকলেন পরামর্শ দেবার জন্য। তারাও মতপার্থক্য করলেন।

সবশেষে বয়স্ক কুরাইশদের ডাকলেন। তারা এবার মতানৈক্য করলেন না। সবাই মত দিলেন-“আপনার প্রত্যাবর্তন করা উচিত। আপনার সঙ্গীদের প্লেগের দিকে ঠেলে দিবেন না। উমর (রাঃ) তাঁদের মত গ্রহণ করলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, মদীনায় ফিরে যাবেন।

খলিফাকে মদীনায় ফিরে যেতে দেখে সেনাপতি আবু উবাইদাহ (রাঃ) বলেন, আপনি কি মহান আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর থেকে পালানোর জন্য ফিরে যাচ্ছেন? আবু উবাইদাহর (রাঃ) কথা শুনে উমর (রাঃ) কষ্ট পেলেন। আবু উবাইদাহ (রাঃ) ছিলেন তাঁর এতো পছন্দের যে, আবু উবাইদাহ (রাঃ) এমন কথা বলতে পারেন উমর (রাঃ) সেটা ভাবেন নি। উমর (রাঃ) বললেন,ও আবু উবাইদাহ! যদি তুমি ব্যতীত অন্য কেউ কথাটি বলতো! আর হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর এক তাকদীর থেকে আরেক তাকদীরের দিকে ফিরে যাচ্ছি।

আল্লাহর এক তাকদীর থেকে আরেক তাকদীরের দিকে ফিরে যাওয়ার মানে কী? উমর (রাঃ) সেটা আবু উবাইদাহকে (রাঃ) বুঝিয়ে বলেন,তুমি বলতো, তোমার কিছু উটকে তুমি এমন কোনো উপত্যকায় নিয়ে গেলে যেখানে দুটো মাঠ আছে। মাঠ দুটোর মধ্যে একটি মাঠ সবুজ শ্যামল, আরেক মাঠ শুষ্ক ও ধূসর। এবার বলো, ব্যাপারটি কি এমন নয় যে, তুমি সবুজ মাঠে উট চরাও তাহলে তা আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী চরিয়েছো। আর যদি শুষ্ক মাঠে চরাও, তা-ও আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী চরিয়েছো।

অর্থাৎ, উমর (রাঃ) বলতে চাচ্ছেন, হাতে সুযোগ থাকা সত্বেও ভালোটা গ্রহণ করা মানে এই না যে আল্লাহর তাকদীর থেকে পালিয়ে যাওয়া। কিছুক্ষণ পর আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) আসলেন। তিনি এতক্ষণ অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি এসে রাসূলুল্লাহর (সাঃ) এর একটি হাদীস শুনালেন। আর তা হলো_তোমরা যখন কোনো এলাকায় প্লেগের বিস্তারের কথা শুনো,তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেও না। [সহীহ বুখারীঃ ৫৭২৯]

রাসূলের (সাঃ) হাদীসটি উমর (রাঃ) সমস্যার সমাধান করে দিলো। অতচ আজকের দিনে আমাদের ঈমান তাদের থেকে এতো মজবুদ দাবী করি যেন আমরা সাহাবী (রাঃ) দের থেকে বেশী মুমিন আর বেশীজ্ঞানী তাই আমাদের সমাধান আমরা নিজেদের মত করে বেড় করে উম্মতের কাছে প্রচার করি।

লেখক: আবু লাইবাহ, বাড্ডা ঢাকা

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here