মোহনপুরে নারায়ণগঞ্জ ফেরত এক গার্মেন্টস কর্মী করোনা আক্রান্ত!

0



ডেস্ক নিউজ, সময় সংবাদ বিডি-
রাজশাহীঃ রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের নারায়ণগঞ্জ ফেরত এক গার্মেন্টস কর্মীর শরীরে করোনার উপসর্গ পাওয়া গেছে। তার শরীরের নমুনা পরিক্ষা করে করোনা পজেটিভ রিপোর্ট দেয় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ল্যাব।

গতকাল মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিএসও ডা.আরিফুল কবির তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পাঠান। পরীক্ষা শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তার রক্তে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে।

ল্যাব সূত্রে, এখন পর্যন্ত মোট ৮৪ টি নমুনা পরিক্ষা করে ৫ টি পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে হরিদাগাছি গ্রামের ফকির পাড়ার জহির উদ্দিনের মেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফেরত গার্মেন্টস কর্মী মোছা. জেসমিন আক্তার (২৭) এর শরীরে করোনা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে।

এমন খবর মুহুর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে রাত ৮ টার পর মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানওয়ার হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি)মো. জাহিদ বিন কাসেম ও মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ গার্মেন্টস কর্মীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেন। এবং পরবর্তীতে হরিদাগাছি গ্রাম সম্পুর্ন লকডাউন ঘোষণা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরিদাগাছি গ্রামের জহির উদ্দিনের মেয়ে মোছা. জেসমিন আক্তার ঢাকা নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। হটাৎ মহামারী করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব দেখা দিলে গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণার পর গত (৯ এপ্রিল) জেসমিন বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর থেকে তিনি করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭/৮ দিন আগে জেসমিন আকতার বাড়িতে ফিরে আসে। এবং পাড়াপ্রতিবেশি অনেকের বাড়িতে গিয়ে দেখা সাক্ষাৎ করে আসে। আবার পাড়াপ্রতিবেশির অনেকেই তার বাড়িতে এসে তাকে দেখে যায়। এরপর বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হলে ধিরে ধিরে জেসমিন অসুস্থ হয়ে পড়ে।এমনকি জেসমিন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পর না বুঝে অনেকেই তার সাথে দেখা করে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিদাগাছি গ্রামের এক ব্যাক্তি সময় সংবাদ বিডিকে বলেন, জেসমিন অসুস্থ হওয়ার পর পাড়াপ্রতিবেশির অনেকেই তার বাড়িতে গেছে। এমনকি জেসমিনকে দেখে আসার পর থেকে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে বলে তিনি জানান।

এসময় আবেগাপ্লুত কন্ঠে তিনি বলেন, আল্লাহ জানেন মেয়েটির আশেপাশের আর কয়জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এরপর গভির রাত পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করে জেসমিনের বাড়ির কারো সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

এদিকে, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত জেসমিনে চিকিৎসার ব্যাপারে কোন খবর পাওয়া যায়নি। তাই পরবর্তী সংবাদে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহীতে ১ এপ্রিল থেকে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রাজশাহী জেলা গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করোনামুক্ত ছিল। ১২ এপ্রিল রোববার প্রথম এ জেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে রাজশাহী জেলাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here