ম্রো ন্যাশনাল ডিফেন্স পার্টির আত্মসমর্পণ মংখিং মারমা,

0


ম্রো ন্যাশনাল ডিফেন্স পার্টির আত্মসমর্পণ সময় সংবাদ বিডি,বান্দরবান :-ম্রো সম্প্রদায়ের একটি সশস্ত্র সংগঠন ম্রো ন্যাশনাল ডিফেন্স পার্টি (এমএনডিপি নামে পরিচিত) আত্মসমর্পণ করেছে। এ সশস্ত্র সংগঠনের অধীনে থাকা অস্ত্রসমেত ৭৯ জন সদস্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।
এমএনডিপি দুটি গ্রুপের মধ্যে লাহোপ ম্রো গ্রুপের ১৪ জন ও মেনরুম ম্রোগ্রুপের ৬৫ জন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বান্দরবানের আলিকদম উপজেলার দূর্গম কুরুক পাতা এলাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপির উপস্থিতিতে তারা আত্মসমর্পণ করে।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভূমি প্রদান, পুনর্বাসনসহ এমএনডিপির ১২টি দাবিই মেনে নেয়া হবে। শিক্ষিত ও উপযুক্ত সদস্যদের সরকারি চাকরিও দেয়া হবে।
বিশেষ অতিথি চট্টগ্রামের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সফিকুর রহমান,বান্দরবান সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী,পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈ হ্লা,পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো.আবু জাফর ও ম্রো সোশিয়াল কাউন্সিল চেয়ারম্যান রাংলরাই ম্রো’র কাছে ১২দফা দাবি নামাসহ এসব এমএনডিপি সদস্য আত্মসমর্পণের কথা বলেন।
ম্রো ন্যাশনাল ডিফেন্স পার্টির আত্মসমর্পণদলের কমান্ডার মেনরুম ম্রোর নেতৃত্বে সারিবদ্ধভাবে এসব এমএনডিপি সদস্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপির নিকট স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেন। ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিলের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে ও নিরাপত্তা বাহিনীর আহ্বানে সাড়া দিয়েই মূলত সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার লক্ষ্যে একমত হয়েছেন। ফলে জেলার দুর্গম এলাকাসমূহের কিছুটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে আসবে এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম সমুহের ত্বরান্বিত হবে বলে স্থানীয়রা মতপ্রকাশ করেছেন।
এমএনডিপি কমান্ডার মেনরুম ম্রো জানান, তারা স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে সংগঠিত হয়েই কিছু সংখ্যক ম্রো যুবককে নিয়ে ম্রো ন্যাশনাল ডিফেন্স পার্টি নামে একটি সশস্ত্র সংগঠন গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে নেতৃত্বে শুন্যতা দেখা দেয়ায় এবং অভ্যন্তরীন দ্বদ্বের জের ধরেই তারা সিদ্ধান্ত নেয় সন্ত্রাস ও অস্ত্রবাজি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে স্থানীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখি কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার। তারই অংশ হিসেবে তারা একযোগে সশস্ত্র সংগঠনের বিলুপ্তি ঘটিয়ে জঙ্গল জীবন ত্যাগ করেন।
২০১১ সালের বছরের প্রথমদিকে আলীকদম-থানছি উপজেলার গহীন অরণ্যে স্বল্প সংখ্যক ম্রো যুবকদের নিয়েই ম্রো ন্যাশনাল ডিফেন্স পার্টি (এমএনডিপি) নামের একটি ম্রো গোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠন গঠিত হয়েছিল। তারা নিজেদের স্বাধিকারের জন্য প্রধানত এ সশস্ত্র সংগঠনটি গড়ে তোলেন। প্রথমদিকে এর নেতৃত্বে ছিলেন মেনরু ম্রো। ২০১২ সালের দিকে আলীকদমের দুর্গম কুরুকপাতা এলাকায় সংগঠনটির ঘাঁটি করা হয়। নিজেদের ভেতরে দ্বন্দ্বের কারণে ৫ এপ্রিল এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মেনরুম ম্রো প্রতিপক্ষের গুলিতে মারা যান। একই বছর ৭ জুন পালে ম্রো প্রতিপক্ষের গুলিতে মারা যান। এর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক দফা অভিযান চলে দুর্গম ক্রুকপাতা ঝিরি এলাকায়। এর পর থেকে খানিকটা এমএনডিপি সদস্যরা দুর্বল হয়ে পড়লেও আকস্মিকভাবে তারা আবারো তৎপর হয়ে উঠেন।
এমএনডিপি জেলার আলীকদম, রুমা, থানছি, লামা এবং রোয়াংছড়ি উপজেলায় কয়েক বছর আগেও বহুবার সন্ত্রাসী হামলা, অপহরণ ,হত্যা, মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণ এবং নানামুখি অপরাধ কমকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং দুর্গম এলাকাসমুহকে সন্ত্রাসমুক্ত রেখে সাধারণ মানুষের মাঝে শান্তি ও অগ্রগতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েই তাদের অভিযান জোরদার করে। এর পর থেকে ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিল নেতৃবৃন্দরা তাদেরকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তার পর থেকেই মূলত এমএনপি সন্ত্রাসী জীবন ত্যাগ করে নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে উদগ্রীব হয়ে পড়েন। ম্রো সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে ও সরকারি আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানকিভাবে অস্ত্রসমেত আত্মসমর্পণ করেছে। এর আগে বুধবার বিকেলে সেনাবাহিনীর কাছে গাদা বন্দুক ৫৫ টি,পোশাক ৭৬ টি,৯৯ রাউন্ড গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামা জমা দেন এমএনডিপির সদস্যরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here