রাজশাহী ও নওগাঁ সিমান্তে দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শংকা!

0



ডেস্ক নিউজ, সময় সংবাদ বিডি-
রাজশাহীঃ রাজশাহী জেলার মোহনপুর ও তানোর থানার শেষ সীমানা এবং নওগাঁ জেলার মান্দা থানার সংযোগ সিমান্তে ট্যেংরা বাধ সংলগ্ন হিন্নার বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে তৃমাত্রীক জটিলতায় ভুগছেন আশপাশের গ্রামের প্রায় দু-শতাধিক জেলে। আর এজটিলতা ধিরে ধিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রুপ নিচ্ছে বলে আশংকা করছে স্থানীয় জেলেরা।

সরেজমিনে জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে ইতিপূর্বেই একটি বাধ নির্মান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এজন্য ততকালীন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জনগণের মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে। বাধ নির্মান শেষে একোয়ার করা জমির অধিকাংশ যায়গা ফাঁকা থেকে যায়। এরপর আশপাশের গ্রামের ভোগদখলে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের একোয়ার করা জমিতে চাষাবাদ করতে থাকে পুর্বের খতিয়ানে রেকর্ডধারি ও তাদের ভাবি ওয়ারিশগন।

জানা গেছে, ট্যাংরা বাধ সংলগ্ন হিন্নার বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্লুইচ গেইট নির্মান করা হয়। আর এই স্লুইচ গেইট দিয়ে মোহনপুর ও মান্দা থানা সিমানার পানি নেমে যায় তানোর থানা সিমানায়। আবার অনেক সময় তানোর থানা সিমানার পানি যায় মোহনপুর ও মান্দা থানা সিমানায়। বছরের অধিকাংশ সময় স্লুইচ গেইট দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয়। আর এরপাশেই রয়েছে একটি সরকারী ক্যানেল। বর্তমানে ক্যানেলটির দুপাশ বন্ধ করে মাছ চাষ করছেন কিছু অসাদু মাছ ব্যাবসায়ী। এদের অনেকেই মান্দা উপজেলার তেতুঁলীয়া ইউনিয়নে চৌজা সামপুর এলাকার বাসিন্দা। বেশকিছু দিন যাবত এই ক্যানেল দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মোহনপুর উপজেলা ঘাষীগ্রাম ইউনিয়নের শেষ সিমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। এ নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে বেশকিছু দিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে যেকোন সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এই আশংকার কথা জানিয়েছেন তেতুঁলীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (বর্তমান বরখাস্ত) শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ সাহা।

এদিকে, পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মান করা স্লুইচ গেইটের নিচে সুতি জালের অবৈধ ঘের করে দখল করেছেন রায়ঘাটি ইউনিয়নের কিছু অসাদু মাছ ব্যাবসায়ী। বিলটি আশপাশের জনগনের মাছ শিকার করার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবুও এখানে প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের দখলের পালা বদল হয়। বর্তমানে এখানে স্লুইচ গেইট দখল নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাশাপাশি এটা দখল করাকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এমন আশংকাও করেছেন রায়ঘাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান খলিল।

রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপরে মোহনপুর উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার রতন ডাঙ্গা মৌজার জে.এল নং-১১ খতিয়ান নং- ৮ দাগ-৩৬৭ মোট ৫১ শতক জমির প্রকৃত মালিক মানিক উল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিন দিগর। পরবর্তীতে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা রায়ঘাটী ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার ও আওয়ামী লীগের ঘোর সমর্থক আয়েন উদ্দিন।

কিন্তু বর্তমানে স্লুইচ গেইটের নিচে সুতি জালের অবৈধ ঘের করে দখল করেছেন রায়ঘাটি ইউনিয়নের রতন ডাংগা গ্রামের বেলাল হোসেন। তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে চুক্তি ভিত্তিক দুবছর যাবত এখানে সুতি জালের অবৈধ ঘের করে মাছ শিকার করছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। আর এ একই কথা সাংবাদিকদের বলেছেন চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান খলিল।

পক্ষান্তরে এই স্লুইচ গেইট ফের দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন একই গ্রামের সাবেক মেম্বার ও আওয়ামী লীগের ঘোর সমর্থক আয়েন উদ্দিন। এর আগে কয়েকবছর তিনি এই স্লুইচ গেইটের নিচে সুতি জালের অবৈধ ঘের করে দখলে রেখেছিলেন। আর স্থানীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক একই গ্রামের দুই ধর্মীয় মসজিদে অর্থ প্রদানের চুক্তি ভংগ করায় তিনি দখল হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান খলিল। তবে চুক্তি অনুযায়ী দুই মসজিদে অর্থ প্রদানের ভিত্তিতে রাজি হলে পুনরায় এর দখলভোগ করতে পারবে আয়েন উদ্দিন বলেও সাংবাদিকদের জানান চেয়ারম্যান খলিল।

উল্লেখ্য, সাবেক মেম্বার ও আওয়ামী লীগের ঘোর সমর্থক আয়েন উদ্দিনকে পুনরায় স্লুইচ গেইটের নিচে সুতি জালের অবৈধ ঘের করে ভোগদখলের দাবি জানিয়েছেন রায়ঘাটি ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান শহিদ ও ঘাষিগ্রাম ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা সুরনজিৎ সরকারসহ স্থানীয় আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here