শিক্ষার ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে সরকারকে আলটিমেটাম

0

photo-1436117138

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ওপর আরোপিত ৭.৫% ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ ব্যানারে আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নো ভ্যাট অন এডুকেশনের সমন্বয়কারীদের পক্ষে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফজলে রাব্বি খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে ভ্যাট-বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক ফারহান হাবীব এ আলটিমেটাম ঘোষণা করেন।এ ছাড়া আগামী দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয় সমাবেশ থেকে।

কর্মসূচিগুলো হলো ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে ৬ জুলাই সারা দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কালো ব্যাজ ধারণ অথবা কালো পোশাক পরিধান করে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ। ৭ জুলাই কালো কাপড় মুখে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে অবস্থান। ৯ জুলাই কার্টুন প্রদর্শনী ও রোড পেইন্টিং ধানমণ্ডি ৭-এর এ সড়কে। এ ছাড়া নিজ নিজ ক্যাম্পাসের সামনে বা সুবিধা মতো জায়গায় এ কর্মসূচি পালন, ১০ থেকে ১৪ জুলাই অর্থমন্ত্রী বরাবর ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য চিঠি প্রেরণ। ১২ জুলাই গোল টেবিল বৈঠক এবং ১৫ জুলাই থেকে ঈদের তিন দিন পর্যন্ত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার, কাভারফটো পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফারহান হাবীব বলেন, আগামী ৩১ জুলাই আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগে যদি ভ্যাট প্রত্যাহার না করা হয় তবে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ফারহান বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের মনে মানবিকতা বলে কিছু নেই। তা না হলে যেখানে আমাদের শিক্ষা ব্যয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের নেওয়ার কথা সেখানে আমাদের মা-বাবারা সে দায়িত্ব নেন। এরপরও যদি আমাদের শিক্ষার ওপর ভ্যাট দিতে হয় তবে বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।’ তিনি আরো বলেন, শিক্ষায় ভ্যাট আরোপের মাধ্যমে শিক্ষা নিয়ে যে ব্যবসা হয় তা প্রমাণ করে দিয়েছে সরকার। এবং এর মাধ্যমে শিক্ষাকে সাধারণের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অতি দ্রুত যদি ভ্যাট প্রত্যাহার করা না হয় তবে আমরা চুপ করে থাকব না। আমরা আরো কঠোর কর্মসূচির দিকে যাব।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র আয়াজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা কি এ দেশের সন্তান? একদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভর্তুকি দিয়ে লেখাপড়া করানো হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের উপর ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। এক দেশ দুই নীতি এটি কেমন কথা?’

সমাবেশে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক জাহিন ফারুক আমিন স্লোগানে স্লোগানে অর্থমন্ত্রীকে ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রীর মনে আমাদের জন্য ভালোবাসা নাই। তাই আমাদের ভালোবাসা পেয়ে তিনি যদি আমাদের দুঃখটা বোঝেন তবে ভ্যাট প্রত্যাহার হবে বলে আশা করি। আর একান্তই না বুঝলে আমরা ভালোবাসাহীন হতে সময় নেব না।’

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সালাউদ্দিন ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মিঠু সরকারের উদ্দেশে বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে না পারলে মন্ত্রী-এমপি, আমলাদের বেতনের ওপর কর আরোপ করুন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শিক্ষা কর গ্রহণ করুন। এসব না করে আমাদের উপর ভ্যাট আরোপ করে দেশের উচ্চ শিক্ষা ধ্বংস করছেন কেন?

সমাবেশের শুরুতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অন্যতম সমন্বয়ক জাহিদ গগন ‘নো ভ্যাট অন এডকেশন’-এর ‘সিদ্ধান্ত দশ’ পড়ে শোনান। যেখানে আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার দিক নির্দেশনা দেওয়া আছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উপস্থিত ছিল ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারাও আন্দোলনের সাথে তাঁদের সংহতি প্রকাশ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here