শীতের আমেজে ফুলবাড়ীতে ধুম পড়েছে ভাপাপিঠা বিক্রির

0


নুরনবী মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি: প্রকৃতির অমোঘ আগমন বার্তায় অনুভূত হচ্ছে শীতের ঠান্ডা ভাব। ভোরের মিষ্টি অালোয় ফসল ও ঘাসের উপর ছড়ানো শিশিরের হাজারো বিন্দু মুক্তা দানার মতো চিকচিক করছে। বাংলার গ্রামীণ জনপদেও শীত হাজির হয় নানান বৈচিত্রের সম্ভারে। শহর-বন্দর ও গ্রাম নতুন অাঙ্গিকে সাজে। মাত্রা পায় খাবার দাবারেও। গ্রামগঞ্জের মত শহরের বাড়ীতে বাড়ীতে পিঠা পুলির পসরা না বসলেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঠিকই মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসেন। শীতে পিঠা খাওয়ার রীতি যেন বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির অংশ। শীত আসলেই গ্রাম-গঞ্জে পিঠা- পুলি তৈরির ধুম পড়ে য়ায়।

এবারের শীতকেও সামনে রেখে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার  পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন রাস্তার পাশে পিঠার দোকান নিয়ে বসে পড়েছেন পিঠা বিত্রুেতারা। উপজেলার   বিভিন্ন   বাজারের ফুটপাতের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে পিঠা বিত্রুি। সন্ধ্যার পরেই এসব বাজারে অস্থায়ী দোকানগুলোতে ধোঁয়া উঠা ভাপাপিঠার স্বাদ নিতে ভীড় করেন নানান বয়সের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বাজারের অলিগলি রাস্তার মোড়ে মোড়ে এই শীতে পিঠা খাওয়া ও বিত্রুির ধুম পড়ে গেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০-১১টা পর্য়ন্ত পিঠা বিত্রুি ও খাওয়া সরেজমিনে ফুলবাড়ী উপজেলার   বিভিন্ন হাট-বাজারে, পাড়া, মহল্লা ও বাস স্ট্যান্ডে দেখা গেছে পিঠা বিত্রুির ধুম।

উপজেলার  বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পিঠা বিত্রুেতাদের সাথে কথা বলে জানা য়ায়, দোকানগুলোতে বেশীর ভাগই পাওয়া যায় ভাপাপিঠা। ফুলবাড়ীর পিঠা   বিত্রুেতা আজিজুল হক(৪২) জানান নতুন খেজুরের গুড় ও নতুন  চালের আটা দিয়ে ভাপাপিঠা বানানো হয়। গরম পানির তাপে বা ভাপে এই পিঠা তৈরি হয় বলে একে ভাপাপিঠা বলে। এই পিঠাকে অারও সুস্বাদু এবং মুখরোচক করতে নারকেল অার গুড় ব্যবহার করা হয়। এই পিঠা তৈরি করতে ১টি পাতিল ও ১টি ঢাকনা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ধরনের পিঠা মানভেদে ৫-১০ টাকায় বিত্রুি হয়।

বালারাট বাজারের পিঠা বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম ও শাহবাজারের পিঠা বিত্রুেতা  সোবহান আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য সময়ে তারা দিন মজুরের কাজে ব্যস্ত থাকেন কিন্তু শীতের মৌসুম এলেই পিঠা বিত্রুি করেন। এছাড়াও লাভ ভালো হয়। এ ব্যবসায় অল্পপুঁজি লাগে বলে তেমন সমস্যা হয় না। কোন কোন দিন হাজার টাকাও লাভ হয়। এই পিঠার দাম কম হওয়ায় সব শ্রেণি পেশার মানুষই এখানে এসে ভীড় জমান পিঠা খেতে। অাবার অনেকেই পিঠা কিনে নিয়ে যায় বাসার সবাই মিলে এক সঙ্গে খাওয়ার জন্য। এখানে পিঠা খেতে অাসা সাংবাদিক জিয়াউর রহমান জানান শীতের সাথে পিঠার যে সম্পর্ক তা ভাপাপিঠা মধ্যেই বোঝা যায়। অার বন্ধুদের সাথে নিয়ে ভাপাপিঠা খেতে মজাই অালাদা। রোজদিনই তারা এখানে পিঠা খেতে অাসেন বলে জানান ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here