সাভারে চামড়া শিল্প কারখানা পরিদর্শনে শিল্পমন্ত্রী

0

Amu1429764138 (1)

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত হচ্ছে ট্যানারি বা চামড়া শিল্প কারখানা। একাজের অগ্রগতি দেখতে সাভার গেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তিনি চামড়া শিল্প পার্কে পৌঁছেন। মন্ত্রী কাজের অগ্রগতি দেখে এখাতের মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেবেন তিনি। মন্ত্রীর সঙ্গে বিসিক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

 

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই জুনে রাজধানী থেকে ট্যানারি শিল্প সরে যাওয়ার কথা রয়েছে। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও মূলত নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণেই হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর হচ্ছে না ট্যানারি শিল্প। সরকারি এবং ট্যানারি মালিক উভয় পক্ষের কাজেই রয়েছে ব্যাপক স্লথগতি।

 

জানা গেছে, ট্যানারি পল্লীর সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কাজ কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি নির্মাণ। কিন্তু এখনও এর ৫০ শতাংশ কাজই শেষ হয়নি। আরেক প্রধান কাজ ট্যানারি মালিকদের কারখানা নির্মাণ। এক্ষেত্রে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৩০-৪০ শতাংশ কাজ করতে পারলেও বাকিগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২০ শতাংশের নিচে।

 

গত ১২ বছর আগে ট্যানারি পল্লী স্থানান্তরের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ হাজারীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবিদ এবং এই খাতের উদ্যোক্তারাও। কারণ ট্যানারি স্থানান্তর না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদী এবং আশপাশের এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আর পরিবেশসম্মত কারখানা না হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ অন্যান্য দেশ বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য কেনা কমিয়ে দিচ্ছে। এ কারণে লোকসানে পড়তে হচ্ছে ট্যানারি মালিকদের।

 

চীনা প্রতিষ্ঠান জেএলইপিসিএ-ডিসিএল জেভিকে ২০১২ সালের ১১ মার্চ সিইটিপি নির্মাণের কার্যাদেশ দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। শর্ত ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এর কাজ শেষ করার। কিন্তু বর্তমানে ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে চামড়া শিল্প নগরীর এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক)।

 

২০০৩ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

 

তৃতীয় দফায় প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পে ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে ১৭৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সাভারের হেমায়েতপুরে ১৯৯.৪০ একর জমিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৫৫ জন শিল্পোদ্যোক্তার মাঝে ২০৫টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিইটিপি নির্মাণের জন্য সাড়ে ১৭ একর জমিসহ মসজিদ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বিসিকের লোকাল অফিস নির্মাণের জন্যও জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here